মুরাবাহার চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক ত্রুটি বিচ্যুতি

মুরাবাহার পদ্ধতি এবং তদীয় সংশ্লিষ্ট আলােচনাসমূহ বর্ণনা করার পর যথাযােগ্য মনে হচ্ছে যে, সেসব মৌলিক ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহের ব্যাখ্যাবিশ্লেষণ করে দেয়া যা সাধারণত ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মুরাবাহা পদ্ধতির উপর আমল করার সময় ঘটে থাকে।

(১) সর্বপ্রথম এবং সর্বাধিক প্রশ্নযােগ্য ত্রুটি হচ্ছে এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করা যে, মুরাবাহা একটি সাধারণ অর্থায়ন পদ্ধতি, যাকে ঐ সব ধরনের অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে যা আধুনিক ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনে (NBFIS) ব্যবহার করে থাকে। সেই ভুল ধারণার ভিত্তিতে কোন কোন ব্যাংকে পরিলক্ষিত হয়েছে যে, তারা দৈনন্দিন ব্যবসায়িক ব্যয়ের (Over Head Expenses) অর্থায়নের জন্যও মুরাবাহাকে ব্যবহার করে। যেমন কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশােধ, বিদুৎ বিল পরিশােধ ইত্যাদি, এমনিভাবে ঐসব ঋণ পরিশােধের জন্য যা এই কোম্পানী অন্যকে পরিশােধ করবে। এ কাজ কোন ভাবেই অগ্রহণযােগ্য নয়। কেননা, মুরাবাহা পদ্ধতি কেবল সেখানেই ব্যবহার হতে পারে যেখানে গ্রাহক কোন জিনিস ক্রয় করতে ইচ্ছুক। যদি অন্য কোন উদ্দেশ্যে ফান্ডের প্রয়ােজন হয়, তাহলে সেখানে মুরাবাহা কার্যকর হবে না। এমন ক্ষেত্রে প্রয়ােজনের ধরন অনুযায়ী মুশারাকা লিজিং ইত্যাদি উপযুক্ত অর্থায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে।

(২) কোন কোন ক্ষেত্রে গ্রাহক মুরাবাহার ডকুমেন্টের উপর শুধুমাত্র ফান্ড অর্জনের জন্য স্বাক্ষর করে। তার সেই ফান্ড দ্বারা নির্দিষ্ট কোন জিনিস ক্রয় করা উদ্দেশ্য হয় না, অনির্ধারিত উদ্দেশ্যের জন্য ফান্ডের প্রয়ােজন। হয়, কিন্তু পদ্ধতিগত প্রয়ােজন পূরণের জন্য সে কাল্পনিকভাবে কোন জিনিসের নাম উল্লেখ করে দেয়, অর্থ উত্তোলনের পর সে তাকে যেখানে ইচ্ছা সেখানে ব্যয় করে (এবং সে জিনিস ক্রয় করে না)।

MUSHARAKA

স্পষ্ট কথা যে, এটা একটি কাল্পনিক এবং মিথ্যা লেনদেন। ইসলামী অর্থায়নকারীদেরকে এব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা উচিত। এই নিশ্চয়তা অর্জন করা তাদের দায়িত্ব যে, যার ভিত্তিতে মুরাবাহা হচ্ছে গ্রাহক বাস্তবিক পক্ষে সে জিনিস ক্রয় করতে ইচ্ছুক কি না। যেসব দায়িত্বশীল লােকেরা মুরাবাহা সুযােগের মঞ্জুরী প্রদান করে তাদের এ কথার নিশ্চয়তা অবশ্যই অর্জন করতে হবে। আর লেনদেন সঠিক কি না, একথার নিশ্চিত কল্পে নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে হবে।

(১) ব্যাংকের উচিত গ্রাহককে (সে জিনিস ক্রয় করার জন্য) ফান্ড দেয়ার পরিবর্তে সরাসরি সরবরাহকারীকে পরিশােধ করবে।

(২) যেখানে ফান্ডের ব্যাপারে গ্রাহকের উপরই ভরসা করা ব্যতীত কোন উপায় নেই, সেক্ষেত্রে গ্রাহক ব্যাংকের পক্ষ থেকে পণ্য ক্রয় করে মেমাে কিংবা অন্য কোন প্রামাণ্য ডকুমেন্ট অর্থায়নকারী ব্যাংকের নিকট পেশ করবে।

(৩) যেক্ষেত্রে উল্লেখিত পদক্ষেপদ্বয় পূর্ণ করা যাবে না, সেক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেই ক্রয়কৃত জিনিস প্রকাশ্যে দেখার ব্যবস্থা করবে।

মােটকথা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হল, একথা নিশ্চিত করা যে, মুরাবাহা প্রকৃত এবং মৌলিক চুক্তি এখানে কার্যত ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে, সুদি ঋণকে গােপন করার জন্য মুরাবাহার ভুল ব্যবহার করা হয়নি।

(৩) কখনাে কখনাে এমনও হয় যে, ব্যাংক সরবরাহকারী থেকে পণ্য সংগ্রহ করার পূর্বেই গ্রাহকের নিকট বিক্রি করে দেয়। এই ত্রুটি-বিচ্যুতির শিকার ঐসব লেনদেনে হয়, যেখানে মুরাবাহার সকল ডকুমেন্টে একই সময় স্বাক্ষর করা হয় এবং মুরাবাহার বিভিন্ন ধাপের প্রতি লক্ষ্য করা হয়। । কোন কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান মুরাবাহার শুধুমাত্র একটি লেনদেনই করে, যার উপর অর্থ প্রদানের সময় কিংবা কখনাে কখনাে এই সুযােগের মঞ্জুরী প্রদানের সময় স্বাক্ষর করা হয়। এই পদ্ধতি মুরাবাহার মৌলিক নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এই বিষয়ে পূর্বে বিবৃত হয়েছে যে, মুরাবাহার ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন চুক্তির একটি প্যাকেজ, যা ক্রমান্বয়ে তার সংশ্লিষ্ট ধাপে ধাপে কার্যকর হয়। এই ধাপ সম্পর্কে মুরাবাহা অর্থায়নের পদ্ধতি প্রসংগে বিস্তারিত আলােচনা করা হয়েছে। মুরাবাহার ঐসব মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রতি লক্ষ্য না রাখলে সমুদয় লেনদেন সুদি ঋণে রূপান্ত রিত হয়ে যায়। শুধুমাত্র পরিভাষা এবং নাম পরিবর্তন করার দ্বারা লেনদেন শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয হয় না।

আরো পড়তে পারেন:  অনলাইনে সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

ইসলামী ব্যাংকসমূহের শরীয়া এডভাইজারী বাের্ডের প্রতিনিধিগণ ব্যাংকের লেনদেন শরীয়তসম্মত হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে, তাদের এ ব্যাপারে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে, লেনদেনে এই সব ধাপের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং প্রত্যেক লেনদেন তার নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত হয়েছে।

(৪) তারল্যের (Liquidity) ব্যবস্থাপনার জন্য সাধারণত পণ্যের আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রয়ােজন হয়। কোন কোন ইসলামী ব্যাংক মনে করে যে, এই চুক্তিটি যেহেতু সম্পদের উপর নির্ভরশীল, তাই এগুলােতে সহজেই মুরাবাহার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায় এবং পণ্যের লেনদেন আন্তর্জাতিক মার্কেটে যেমনিভাবে প্রচলিত রয়েছে তা শরীয়তসম্মত নয় । ব্যাংক এদিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই এই ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অবাস্তব চুক্তি হয় যেগুলাের মধ্যে কোন জিনিসেরই লেনদেন হয় না, পার্টিগণ পার্থক্য বরাবর করে মু’আমালা সমাপ্তি করে দেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে পণ্য প্রকৃতভাবে মিশ্রিত থাকে কিন্তু সেগুলাের ফরওয়ার্ড সেল হয় অর্থাৎ, ভবিষ্যতের সাথে সম্পৃক্ত ক্রয়-বিক্রয়। অথবা পণ্যবিহীন ক্রয়-বিক্রয় (Short Sale) হয়, আর এ পদ্ধতিদ্বয় শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয। এমনকি এই মু’আমালা যদি উপস্থিত পণ্যের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধ থাকে তাহলেও তা মুরাবাহার ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী হতে হবে যা এই গ্রন্থে বিবৃত হয়েছে।

(৫) কোন কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিলক্ষিত হয়েছে যে, তারা ঐ সম্পদের উপর মুরাবাহা করে যা গ্রাহক পূর্বেই তৃতীয় কোন পার্টি থেকে ক্রয় করে নিয়েছে। এটাও শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নেই। যখন গ্রাহক স্বয়ং একবার সে জিনিসটি ক্রয় করে নিয়েছে তাহলে একই পণ্যকে পুনর্বার সেই সরবরাহকারী থেকে ক্রয় করতে পারে না। যদি সেই জিনিসকেই ব্যাংক গ্রাহক থেকে ক্রয় করে পুনরায় তার নিকটই বিক্রি করে দেয়, তাহলে এটা Buy Back এর কৌশল হবে, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নেই। বিশেষ করে মুরাবাহায়, মূলত গ্রাহক যদি প্রথমে সেই জিনিস ক্রয় করে নেয় এবং পরে ফান্ডের জন্য ব্যাংকের নিকট আসে, তাহলে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়ত তার উপর বিক্রেতার পক্ষ থেকে যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তার থেকে মুক্তি পাওয়া কিংবা ঐ ফান্ডকে সে অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায়। এই দু’উদ্দেশ্যের কোন উদ্দেশ্যের জন্যই ব্যাংক তাকে মুরাবাহার ভিত্তিতে অর্থায়ন করতে পারবে না। মুরাবাহা শুধুমাত্র সে ক্ষেত্রেই হতে পারে যখন উক্ত জিনিস গ্রাহকের পূর্ব থেকেই ক্রয়কৃত না হবে।

আরো পড়তে পারেন:  লোন নাকি ক্রেডিট কার্ড : কোনটি নিবেন

সারাংশ

মুরাবাহার বিভিন্ন দিকের উপর পূর্বের আলােচনা থেকে নিম্নবর্ণিত ফলাফল বের করা যায় যা স্মরণ রাখার মত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক নীতিমালা ।।

(১) মুরাবাহা প্রকৃতগতভাবে কোন অর্থায়ন পদ্ধতি নয়, এটা একটি সাধাসিধা ক্রয়-বিক্রয়, মূল ব্যয়ের উপর সংযােজনের (Cost Plus) | চুক্তি পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু তাতে বাকিতে পরিশােধের পিদ্ধতিকে সংযােজন করে তাকে শুধুমাত্র ঐ সব ক্ষেত্রে অর্থায়ন পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করার পথ উন্মুক্ত করা যায় যেখানে গ্রাহক বাস্তবিকপক্ষে কোন পণ্য ক্রয় করতে ইচ্ছুক। এ কারণেই মুরাবাহাকে আদর্শ অর্থায়ন পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না এবং না সর্বপ্রকারের অর্থায়নের জন্য সাধারণ পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা যায়। তাকে মুশারাকা এবং মুদারাবার উপর নির্ভরশীল আদশিক অর্থায়ন পদ্ধতির দিকে একটি সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। অন্যথায় মুরাবাহার ব্যবহার শুধুমাত্র সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে যেখানে মুশারাকা এবং মুদারাবা ব্যবহার করা যাবে না।

(২) মুরাবাহা চুক্তির মঞ্জুরী প্রদানের সময় মঞ্জুরীদাতা কর্মকর্তার এতটুকু নিশ্চিত হতে হবে যে, গ্রাহক বাস্তবিকপক্ষেই সেই জিনিস ক্রয় করতে ইচ্ছুক যার উপর মুরাবাহা সংঘটিত হচ্ছে। তাকে শুধুমাত্র কাগজপত্রের ফরমালেটি বানানাে যাবে না যেখানে মূলত কোন ক্রয়-বিক্রয় নেই।

(৩) Over Head Expenses বিলসমূহের পরিশোধ কিংবা গ্রাহকের দায়িত্বে অন্য কোন ঋণ পরিশােধের জন্য মুরাবাহা সংঘটিত হতে পারবে। এমনিভাবে মুদ্রা ক্রয়ের জন্যও মুরাবাহা হতে পারবে না।

(৪) মুরাবাহা বৈধ হওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, সংশ্লিষ্ট পণ্য গ্রাহকের নিকট মুরাবাহার ভিত্তিতে বিক্রির পূর্বে তা অর্থায়নকারীর মালিকানায় এবং প্রত্যক্ষ কিংবা পরােক্ষ কজায় আসতে হবে। মাঝে এমন কিছু সময় থাকতে হবে যখন সে পণ্য অর্থায়নকারীর ঝুঁকিতে (Risk) থাকবে। ঐ পণ্যের মালিকানা অর্জন করা ব্যতীত এবং স্বল্প সময়ের জন্য হলেও তার ঝুঁকি বহন করা ব্যতীত এই লেনদেন শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযােগ্য হবে না এবং এর মাধ্যমে অর্জিত মুনাফাও হালাল হবে না।

(৫) মুরাবাহা করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হল, অর্থায়নকারী সরবরাহকারী থেকে সে জিনিস সরাসরি ক্রয় করে তাতে কজা প্রতিষ্ঠা করার পর স্বীয় গ্রাহকের নিকট মুরাবাহার ভিত্তিতে বিক্রি করবে। পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারে অর্থায়নকারীর পক্ষ থেকে গ্রাহককে উকিল নিযুক্ত করার দ্বারা মুরাবাহাকে সন্দেহযুক্ত করে দেয়। এ কারণে কোন কোন শরীয়াহ বাের্ড এই কৌশলকে নিষিদ্ধ বলে সাব্যস্ত করেছেন। কিন্তু যেক্ষেত্রে অর্থায়নকারীর জন্য সরাসরি ক্রয় করা সম্ভব হয় না, সেক্ষেত্রে উকিল বানানাের অনুমতি আছে। এজন্য যথাসম্ভব ওকালতির চিন্তা-পদ্ধতি থেকে বিরত থাকা উচিত।

আরো পড়তে পারেন:  ইসলামী ব্যাংক এর কার্যাবলী

(৬) বাস্তবিক প্রয়ােজনের ক্ষেত্রে অর্থায়নকারী যদি তার গ্রাহককে সেই পণ্য ক্রয়ের জন্য উকিল নিয়ােগ করে, তাহলে তার বিভিন্ন দিককে (অর্থাৎ উকিল হওয়া এবং পরিশেষে ক্রেতা হওয়া) একটিকে অপরটির থেকে পরিষ্কারভাবে পৃথক রাখতে হবে। উকিল হিসেবে সে আমানতদার। যে যাবৎ সে জিনিস অর্থায়নকারীর উকিল হিসেবে তার কজায় থাকবে সে যাবৎ কোনরূপ অবাঞ্চিত হস্তক্ষেপ ব্যতীত তা যদি বিনষ্ট হয়, তাহলে গ্রাহক তার ক্ষয়-ক্ষতির দায়িত্ব বহন করবে না। যখন উকিল হিসেবে সে উক্ত জিনিস ক্রয় করবে, তখন সে অর্থায়নকারীকে অবগত করবে যে, উকিল হিসেবে তার দায়িত্ব পূর্ণ করে সে ক্রয়কৃত পণ্য কজা করে নিয়েছে এবং এখন সে অর্থায়নকারী থেকে তা ক্রয় করার জন্য প্রস্তাব করছে। যখন অর্থায়নকারী এই প্রস্তাব কবুল করে নিবে তখন ক্রয়-বিক্রয় পূর্ণ হয়ে যাবে এবং উক্ত পণ্যের ঝুঁকি (Risk) ক্রেতা হিসেবে গ্রাহকের দিকে অর্পিত হয়ে যাবে। এপর্যায়ে গ্রাহক ঋণগ্রহীতা (Debtor) হয়ে যাবে এবং ঋণগ্রহীতা হওয়ার বিধি-বিধানও তার উপর প্রয়ােগ হবে। এগুলাে হচ্ছে মুরাবাহা অর্থায়নের মৌলিক চাহিদা যেগুলাে ব্যতীত মুরাবাহা করা যায়। মুরাবাহার মাধ্যমে অর্থায়নের পদ্ধতির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রসংগেও আমরা ওকালত চুক্তির সাথে মুরাবাহার পাঁচটি ধাপের আলােচনা করেছি। ঐ পাচটি ধাপের প্রত্যেকটি ধাপের স্বীয় সঠিক আকৃতিতে বাস্তবায়ন হওয়া অপরিহার্য। সেগুলাের কোন একটিকে উপেক্ষা করা হলে পুরাে ব্যবস্থাপনাই শরীয়তের দৃষ্টিতে অগ্রহণযােগ্য হয়ে যাবে।

একথা পূর্ণ সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, মুরাবাহা এমন একটি লেনদেন যা (হালাল-হারামের) সীমান্তে প্রতিষ্ঠিত এবং বর্ণিত পদ্ধতি থেকে কিঞ্চিত পরিমাণও এদিক-সেদিক হয়ে গেলে তা সুদি অর্থায়নের নিষিদ্ধ পরিধিতে নিপতিত হয়ে যাবে। এ কারণে এই লেনদেন পূর্ণদৃষ্টি এবং সতর্কতার সাথে করতে হবে এবং শরীয়তের কোন বিধানে উদাসীনতা অবলম্বন করা যাবে না।

(৭) বাকি এবং নগদের ভিত্তিতে দু’টি মূল্য ধার্য করা এই শর্তে জায়েয যে, গ্রাহক দু’টির যে কোন একটিকে নির্দিষ্টভাবে গ্রহণ করে নিতে হবে। যখন একবার মূল্য নির্ধারণ হয়ে যাবে তখন পরিশােধে বিলম্বের কারণে তাতে বৃদ্ধিও করা যাবে না এবং নির্ধারিত সময়ের পূর্বে আদায়ের কারণে কমও করা যাবে না।

(৮) ক্রেতা সময়মত মূল্য পরিশােধ নিশ্চিতকল্পে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে যে, অনাদায়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অর্থ সে এমন কল্যাণ ফান্ডে প্রদান করবে, যা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। এর পরিমাণ বার্ষিক পার্সেন্টিসের ভিত্তিতেও নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু এ অর্থ অবশ্যই প্রকৃত কল্যাণমূলক কাজেই ব্যয় করতে হবে। কোন অবস্থাতেই তাকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়ের অংশ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

(৯) যথা সময়ের পূর্বে আদায়ের ক্ষেত্রে গ্রাহক কোন রকম অবকাশের দাবি করতে পারবে না। তবে চুক্তিতে পূর্বশর্ত ব্যতীত আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বীয় সন্তুষ্টিতে মূল্যের কিছু অংশ মাফ করতে পারে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *