লোন নাকি ক্রেডিট কার্ড : কোনটি নিবেন

আমরা সবাই ভোক্তা। যদিও এখানে এটি একটি অপ্রয়োজনীয় কথা, তবে আমার এ বিষয়টি উল্লেখ করার একটি কারণ রয়েছে। যেহেতু আমরা ভোক্তা, তাই আমরা প্রায় প্রতিদিনই নিয়মিত নতুন নতুন পণ্য এবং পরিষেবা ব্যবহার করি। এর অর্থ হল, কখনও কখনও আমাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট পরিমান টাকা নাও থাকতে পারে। তখন আমরা টাকার জন্য আর্থিক প্রতিষ্টান বা অন্য ব্যক্তির দ্বারস্থ হই। উদাহরণস্বরূপ, এমন কিছু লোক আছেন, যারা ৩০ বছর বয়স হওয়ার আগে নিজের জন্য বাড়ি কিনে থাকেন। আবার এমন কিছু লোক আছেন যারা ৬০ বছর বয়সে নিজের বাড়ি কিনতে সক্ষম হন। সংক্ষেপে, আর্থিক পরিকল্পনা আপনার জীবনের একটি বড় অংশ। তবে, এই আর্থিক চাহিদা মেটানোর অন্যতম দুটি মাধ্যম হল লোন এবং ক্রেডিট কার্ড। কোন অবস্থায় আপনি কোনটি নিবেন :লোন বনাম ক্রেডিট কার্ড

লোন নাকি ক্রেডিট কার্ড

সহজলভ্যতা
ক্রেডিট কার্ডের সাথে লোনের তুলনা করার সময় প্রথম যে বিষয়টি সামনে আসে তা হল কোনটি পাওয়া সহজ । যদিও ক্রেডিট স্কোর ক্রেডিট কার্ড অথবা লোন নেয়ার জন্য অনেকটা নির্ভর করে, তবুও ক্রেডিট কার্ড পাওয়া অনেক সহজ। সর্বোপরি, আপনার ৫০,০০০.০০ টাকার জন্য লোন নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। যখন এই জাতীয় পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, তখন ক্রেডিট কার্ড নেওয়াই ভাল। এ রকম ক্ষেত্রে শুধু ক্রেডিট কার্ড নেওয়াই শুধু ভাল তা নয়, ক্রেডিট লিমিট অনেক বেশি পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। অন্যদিকে আপনি ঋণ নিতে গেলে আপনার অনেক সময় লাগবে, অনেক ডকুমেন্টের দরকার পড়বে, ভেরিফিকেশন হবে, প্রসেসিং ফি কেটে নিবে।

আরো পড়তে পারেন:  কি কি কারণে চেক ডিজঅনার হয়

ক্রেডিট লিমিট
যখন ক্রেডিট লিমিটের বিষয়টি আসে তখন নিঃসন্দেহে ক্রেডিট কার্ডের চেয়ে ঋণ নেয়া ভাল। কারণ, ঋণের মাধ্যমে আপনি লক্ষ বা কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবেন কিন্ত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনি লক্ষ টাকার বেশি ক্রেডিট লিমিট নিতে পারবেন না। ক্রেডিট কার্ডের লিমিট কখনও ঋণের লিমিটকে অতিক্রম করতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেষণা অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ লিমিট যদিও ২০ লক্ষ টাকা কিন্তু বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণতঃ সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা ক্রেডিট লিমিট প্রদান করে থাকে।

সুদের হার
ক্রেডিট কার্ডের একটি ভাল দিক হল আপনি চাইলে খুব অল্প সময়ে আপনি ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা উঠাতে পারবেন, জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে পারবেন। কিন্তু বিল পরিশোধের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে না পারলে, আপনাকে অনেক টাকা সুদ প্রদান করতে হবে।

ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি কোনো কারণে আপনি কখনো ক্রেডিট কার্ডের বিল সঠিক সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে আপনাকে অনেক টাকা সুদ দিতে হবে। সঠিক সময়ে বিল প্রদান করতে না পারলে কিছু কিছু ব্যাংক যেদিন আপনি পারচেজ করেছিলেন সেই তারিখ থেকে আপনার সুদের হার হিসাব করে পরবর্তী মাসে আপনাকে বিল ধরিয়ে দিবে। তাই ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার সময় সুদের হার অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে

বাংলাদেশে খুব কম সংখ্যক ব্যাংকে খুব কম রেটে ক্রেডিট কার্ড প্রদান করে থাকে। দুই থেকে তিনটি ব্যাংক আপনি ১৮% হারে ক্রেডিট কার্ড প্রদান করবে। আর অধিকাংশ ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে ২৪ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা আদায় করে থাকে

আরো পড়তে পারেন:  বাংলাদেশ ব্যাংকের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় লেনদেন করুন, নিরাপদ থাকুন

লোন বনাম ক্রেডিট কার্ড
পরিশেষে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে ক্রেডিট কার্ড পাওয়া অনেক সহজ এবং ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার জন্য ব্যাংকের সেলস এক্সিকিউটিভ আপনার পিছে পিছে ঘুরঘুর করবে। কারণ, ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার অনেক বেশি। অন্যদিকে, লোন এর সুদের হার অনেক কম এবং লোন পাওয়া অনেক জটিল। কারণ, লোন পেতে অনেক ধরনের ডকুমেন্ট, সেলারি, মর্টগেজ দেখাতে হয়। সাধারণত: পাঁচ লক্ষ টাকা সর্বোচ্চ ক্রেডিট লিমিট দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লোনের পরিমাণ ১ লক্ষ থেকে শুরু করে আপনার জামানত ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে লোন প্রদান করা হয় এবং লোনের সুদের হার অনেক কম হয়। আপনি ক্রেডিট কার্ড নিলে যদি সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে আপনাকে অনেক টাকা সুদ প্রদান করতে হবে। অন্যদিকে, লোনের কিস্তি যদি আপনি সময় মত না দিতে পারেন, তাহলে খুব একটা বেশি অতিরিক্ত চার্জ আপনাকে প্রদান করতে হবে না। এখন নির্বাচন করুন আপনি কোনটি গ্রহন করবেন। ক্রেডিট কার্ড নাকি লোন।

Recommended For You

About the Author: এডমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *