ইসলামী ব্যাংক এর কার্যাবলী

ইসলামী ব্যাংকিং বর্তমান যুগে একটি অনস্বীকার্য বাস্তব সত্য হয়ে গিয়েছে। ইসলামী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহদায়তন পুঁজি নিয়ে নতুন নতুন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। আধুনিক ব্যাংকও ইসলামিক শাখা (Islamic Windows) কিংবা অধীনস্থ ইসলামী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করছে। এমনকি অমুসলিম ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এ ময়দানে প্রবেশ করছে এবং অধিকহারে মুসলমানদেরকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য পরস্পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আগত দশকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি কমপক্ষে দ্বিগুণ হয়ে যাবে এবং আশা করা যাচ্ছে যে, ইসলামী ব্যাংকসমূহের লেনদেন পৃথিবীর আর্থিক চুক্তির একটি বড় অংশকে পরিবেষ্টন করে নিবে। কিন্তু ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বিস্তৃত করার পূর্বে নিজেদের বিগত দু’দশকের কার্যক্রম সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ করা উচিত। কেননা প্রত্যেক নিত্য নতুন পদ্ধতির জন্য অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা অর্জন করা উচিত এবং স্বীয় কর্মকাণ্ডের উপর পুনর্বার দৃষ্টিপাত এবং নিজেদের ত্রুটি-বিচ্যুতির বাস্তবসম্মতভাবে পর্যালােচনা করা প্রয়ােজন। যে সময় পর্যন্ত আমরা আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং ভালাে-মন্দের পর্যালােচনা না করব, সে সময় পর্যন্ত আমরা পূর্ণ সফলতার দিকে অগ্রসর হওয়ার আশা করতে পারি না। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী শরীয়তের আলােকে ইসলামী ব্যাংক এবং ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের পর্যালােচনা করা উচিত এবং এ কথা সুস্পষ্ট করা যে, তারা কি পেয়েছে এবং কি হারিয়েছে।

ইসলামী অর্থব্যবস্থার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার অর্থ হচ্ছে, ইসলামী ব্যাংকের এটা দীপ্তমান সাফল্য যে, তারা এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠন করে শরীয়তের অনুসরণের জন্য একটি বিরাট পথ সুগম করে দিয়েছে। সুদবিহীন অর্থ-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হওয়া মুসলমানদের একটি সুন্দর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকিং শুধুমাত্র একটি কাল্পনিক বিষয় ছিল, যে বিষয়ে রচনা-প্রবন্ধের মাধ্যমে গবেষণা করা হত এবং তার কোন বাস্তবরূপ বিদ্যমান ছিল না। এসব ইসলামী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানই এ স্বপ্ন এবং কাল্পনিক বিষয়কে বাস্তবায়ন করে জীবন্ত এবং বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা এ কাজ এমন এক পরিবেশে করেছে, যে পরিবেশে এ দাবী করা হত যে, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানই সুদবিহীন চলা সম্ভব নয়।

মূলত এটা ইসলামী ব্যাংকের অত্যন্ত দুঃসাহসী পদক্ষেপ ছিল যে, তারা এ দৃঢ়সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হয়েছে যে, তাদের যাবতীয় চুক্তি ইসলামী শরীয়তসম্মত হবে এবং তাদের সকল কর্মকাণ্ড সুদের সাথে জড়িত হওয়া থেকে পবিত্র থাকবে ।

ঐসব ইসলামী ব্যাংকের একটি বড় ভূমিকা এই যে, যেহেতু এ ব্যাংক শরীয়াহ সুপারভাইজারী বাের্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সেহেতু তারা শরীয়তের বিজ্ঞজনদের সামনে আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যার ফলে তারা শুধুমাত্র বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কায়-কারবার উপলব্ধিরই সুযােগ পাননি বরং শরীয়তের আলােকে সেগুলাে পর্যালােচনা করত শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযােগ্য তার বিকল্প পদ্ধতি ও পেশ করার সুযােগ পেয়েছে।

এ কথা অবশ্যই বুঝা উচিত যে, আমরা যখন বলি ইসলাম সর্বকালের সর্বাবস্থায় প্রত্যেক সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান পেশ করতে সক্ষম। তার অর্থ এটা নয় যে, কুরআন-হাদীস এবং মুসলিম আলিমদের ইসতিস্বাতকৃত বিধি-বিধানে আমাদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবনের যাবতীয় বিষয়াদি বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে। বরং উদ্দেশ্য হল, কুরআন এবং হাদীস বিস্তৃত এবং ব্যাপক মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যেগুলাের আলােকে প্রত্যেক যুগের আলিমগণ তাদের যুগের নিত্য-নতুন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে পারে। শরীয়তের আলােকে এ নিত্যনতুন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য শরীয়ত বিজ্ঞজনদের বিরাট ভূমিকা পালন করতে হয়। তাদেরকে প্রতিটি সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে কুরআন-হাদীসে নির্ধারিত উসূল এবং ইসলামী ফিকহের গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত বিধি-বিধানের আলােকে গবেষণা করতে হয়। এ কাজকে “ইসৃতিদাত” এবং “ইজতিহাদ” বলা হয়। ইজতিহাদ এবং ইতিঘাতের এ সুযােগ ইসলামী ফিক্‌হকে ইলম এবং হিকমতের এমন রত্ন-ভাণ্ডার দিয়েছে, অন্য কোন ধর্ম যার সমকক্ষ পরিলক্ষিত হয় না। এমন একটি সমাজ যে সমাজে শরীয়তের বিধি-বিধান পুরােপুরিভাবে পালিত হচ্ছে, সেখানে ইজতিহাদ এবং ইসতিঘাতের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড ইসলামী ফিকহী উত্তরাধিকারে নতুন বিধি-বিধান এবং চিন্তা-ভাবনা সংযােজন করতে থাকে। যার ফলে প্রায় সকল সমস্যার সুস্পষ্ট সমাধান ইসলামী ফিকহের গ্রন্থাবলীতে অনুসন্ধান করা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু বিগত কয়েক শতাব্দীতে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধঃপতন তাদেরকে এ কর্মকাণ্ড থেকে যথেষ্টভাবে বিরত রেখেছে। অনেক ইসলামী দেশ সরাসরি অমুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের অধীনস্থ ছিল, যারা শক্তি বলে ইসলাম বিরােধী শাসন পদ্ধতি চালু করেছে এবং মুসলমানদেরকে আর্থ-সামাজিক জীবনে শয়ী হিদায়াত থেকে বঞ্চিত রেখেছে। ইসলামী বিধি-বিধান, ইবাদাত, ধর্মীয় শিক্ষা এবং কোন কোন দেশে বিবাহ-শাদী এমনকি তালাক ও উত্তরাধিকারের বিষয়সমূহও সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়াদি থেকে শয়ী শাসনকে একেবারে দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়েছিল।

আপনার অ্যাকাউন্ট কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা করতে হবে

যেমনিভাবে যে কোন আইনগত ব্যবস্থার উত্থান ও উন্নত হওয়া তা কার্যকর এবং প্রয়ােগের উপর নির্ভরশীল, তেমনিভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে ইসলামী আইন-কানুনের উত্থানকেও সেই অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাজারে যত রকমের ব্যবসায়িক চুক্তি সেকুলারিজম চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলােকে শরীয়তের আলােকে পর্যালােচনা করার জন্য খুব কমই শরীয়ত বিজ্ঞজনদের সামনে পেশ করা হয়েছে। এ কথা সত্য যে, এ সময়ও কোন কোন আমলী মুসলমান কোন কোন আমলী প্রশ্নসমূহ শরীয়তের আলিমদের নিকট পেশ করেছে, যেগুলাের সমাধান আলিমগণ ফতওয়ার আকৃতিতে বর্ণনা করেছেন, যেগুলাের একটি পূর্ণ সংক্ষিপ্তসার এখনও পাওয়া যায়। কিন্তু এসব ফওয়ার সম্পর্ক সাধারণত ব্যক্তিগত মাসআলার সাথে ছিল এবং সেগুলাে দ্বারা সেসব লােকদের ব্যক্তিগত প্রয়ােজনই পূর্ণ হয়েছে।

আরো পড়তে পারেন:  ক্ষীয়মান অংশীদারিত্ব Diminishing Musharakah

ইসলামী ব্যাংকসমূহের সবচেয়ে বড় খিদমত হল, তারা ব্যবসাবাণিজ্যের বিস্তৃত ময়দানে আসার কারণে ইসলামী আইন ব্যবস্থা উত্থানের প্রচেষ্টা পুনর্বার চালু হয়েছে। অধিকাংশ ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ সুপারভাইজরি বাের্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ব্যাংক তাদের দৈনিক উদ্ভূত সমস্যাবলী শরীয়ত বিজ্ঞজনদের সামনে পেশ করে, যারা ইসলামী উসূল এবং বিধি-বিধানের আলােকে তাদের সম্পর্কে বিশেষ আহকাম চালু করে। এ পদ্ধতি দ্বারা শুধু এতটুকুই নয় যে, শরীয়ত বিজ্ঞজন নিত্য-নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করে বরং এসব আলিমগণের ইসতিঘাতের মাধ্যমে ইসলামী ফিকহেরও উত্থান হয়। সুতরাং কোন কাজকে যদি শরীয়ত বিজ্ঞজন অনৈসলামিক বলে সাব্যস্ত করে, তাহলে শরীয়তের আলিমগণ এবং ইসলামী ব্যাংকসমূহের ব্যবস্থাপকদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেগুলাের উপযুক্ত বিকল্প পন্থাও অনুসন্ধান করা হয়। উত্থাপিত সমস্যা সমূহের সমাধান কল্পে শরীয়াহ বাের্ডের গৃহিত প্রস্তাব ও সিদ্ধান্তসমূহ দ্বারা এ যাবত দশ খণ্ডের কিতাব প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। ইসলামাইজড করণে ইসলামী ব্যাংকসমূহের অর্থ ব্যবস্থাকে এটা একটি বড় ভূমিকা যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এসব ইসলামী ব্যাংকসমূহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হল, তারা নিজেদেরকে আন্তর্জাতিক মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংকিং আধুনিক ব্যাংকিং পদ্ধতি থেকে পৃথক হওয়ার কারণে সারা পৃথিবীতে ধীরে ধীরে পরিচিতি লাভ করছে। এ যাবত আমার উক্তি “অর্থব্যবস্থায় ইসলামী ব্যাংকসমূহের বিরাট ভূমিকা” সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে এসব ব্যাংকের কার্যক্রমে বেশকিছু ত্রুটি-বিচ্যুতিও রয়েছে, যেগুলাের ব্যাপারে মার্জিত ভাষায় শালীনতার সাথে পর্যালােচনা হওয়া উচিত।

সর্বপ্রথম কথা হল, ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতি একটি অর্থনৈতিক দর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত যা শরীয়তের উসূল এবং বিধি-বিধানের গভীরে নিহিত রয়েছে। সুদবিহীন ব্যাংকিং-এর দৃষ্টিতে এ দর্শনের লক্ষ্য হচ্ছে সম্পদ বণ্টনে সর্বপ্রকারের শােষণমুক্ত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। যেরূপ আমি আমার বিভিন্ন রচনা-প্রবন্ধে বর্ণনা করেছি যে, সুদি লেনদেনের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে জনসাধারণের স্বার্থের পরিপন্থি ধনীক শ্রেনীর পৃষ্ঠপােষকতা করা। আমীর শিল্পপতিগণ ব্যাংকসমূহ থেকে বিরাট অংকের অর্থ ঋণ গ্রহণ করে সাধারণ আমানতকারীগণের অর্থকে অধিক লাভজনক প্রজেক্টে বিনিয়ােগ করে। প্রচুর মুনাফা অর্জনের পর তারা সাধারণ আমানতকারীগণকে ন্যূনতম হারে সুদ প্রদান ব্যতীত স্বীয় মুনাফায় অংশীদার হতে দেয় না। এবং এ ন্যূনতম পরিমাণ সুদও স্বীয় উৎপাদিত দ্রব্যের ব্যয়ে অন্তর্ভুক্ত করে (সেগুলাের ততটুকু পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধি করে) ক্রেতা (জেন সাধারণ) থেকে নিয়ে নেয়। এ কারণে যদি সামষ্টিক দৃষ্টি কোন থেকে (Macro Level) দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে যে, এসব সাধারণ আমানতকারীগণকে তারা কিছুই প্রদান করে না। পক্ষান্তরে যদি প্রচুর পরিমাণে ক্ষতি হয়ে যায়, যার কারণে তারা দেউলিয়া হয়ে যায় এবং এর ফলে ব্যাংকও দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে সমুদয় ক্ষতি সাধারণ আমানতকারীগণকে বহন করতে হয়। এ পদ্ধতিতে সম্পদ বণ্টনে সুদ বেইনসাফী এবং অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি করে।

ইসলামী অর্থায়ন পদ্ধতি এর থেকে ভিন্নরূপ। শরীয়তের আলােকে (Financing) অর্থায়নের আদর্শিক পদ্ধতি হল মুশারাকা। যে পদ্ধতিতে লাভ-লােকসান উভয়ে দু’পক্ষ আনুপাতিক হারে অংশীদার হয়। মুশারাকা সাধারণ আমানতকারীগণকে ব্যবসা থেকে অর্জিত প্রকৃত মুনাফায় অংশীদার হওয়ার সর্বোত্তম সুযােগ করে দেয়। আর এ মুনাফা সাধারণ অবস্থায় সুদের হার অপেক্ষা যথেষ্ট পরিমাণে বেশি হতে পারে। যেহেতু ততক্ষণ পর্যন্ত মুনাফা নির্ধারণ করা যায় না, যতক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দ্রব্য পরিপূর্ণরূপে বিক্রি না করা হবে। এ কারণে সাধারণ আমানতকারীগণকে (Depositors) পরিশােধকৃত মুনাফার অর্থ উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্যে অন্ত ভুক্ত করা যায় না। যার ফলে সুদি ব্যবস্থাপনার বিপরীত সাধারণ আমানতকারীগণকে পরিশােধকৃত মুনাফা দ্রব্যের মূল্যে সংযােজন করে ফেরৎ নেয়া যায় না।

ইসলামী ব্যাংকিং-এর এ দর্শনকে কার্যতভাবে ততক্ষণ পর্যন্ত রূপ দেয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক মুশারাকা ব্যবহারের পরিধিকে বিস্ত ত না করবে। এ কথা সত্য যে, মুশারাকা ব্যবহারে কিছু কার্যত জটিলতা রয়েছে। বিশেষত বর্তমান পরিবেশে যে পরিবেশে ইসলামী ব্যাংক একাকিভাবে এবং সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সহযােগিতা ব্যতীত কাজ করছে, কিন্তু তদুপরিও এ বাস্তবতা নিজ স্থানে রয়েছে যে, ইসলামী ব্যাংকসমূহের ক্রমান্বয়ে মুশারাকার দিকে অগ্রসর হওয়া এবং তাদের জন্য মুশারাকায় অর্থায়নের পরিধিকে বৃদ্ধি করা উচিত। দুর্ভাগ্যবশত ইসলামী ব্যাংকসমূহ ইসলামী ব্যাংকিং-এর এ মৌলিক চাহিদাকে দৃষ্টির আড়াল করে রেখেছে এবং মুশারাকার ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হওয়ার ব্যাপারে

উল্লেখযােগ্য কোন প্রচেষ্টা বিদ্যমান নেই। এমনকি ক্রমান্বয়ে এ পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হওয়া এবং নির্বাচিত নীতিমালার ভীত্তিতে ও এ প্রচেষ্টা নেই। এ অবস্থার ফলাফল কয়েকটি অসংগতিপূর্ণ উপাদানের আকৃতিতে প্রকাশ হয়েছে।

প্রথম কথা, ইসলামী ব্যাংকিং-এর মৌলিক দর্শন দৃষ্টির আড়ালে রেখে তা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয় কথা হল মুশারাকা পদ্ধতি ব্যবহার না করে এড়িয়ে যাওয়ার কারণে ইসলামী ব্যাংক মুরাবাহা এবং ইজারা ব্যবহারের উপর বাধ্য হয়ে যাচ্ছে এবং এ ব্যবহারও আধুনিক মানদণ্ড যেমন LIBOR ইত্যাদির স্ট্রাকচার অনুযায়ী হচ্ছে। যার কারণে ইসলামী ব্যাংকের লেন-দেন চূড়ান্ত পর্যায়ে বস্তুগতভাবে সুদি লেনদেন থেকে বৈসাদৃশ্য হয় না। আমি সেসব লােকদের পক্ষপাতিত্ব করি না, যারা প্রচলিত সুদী ব্যাংকের লেনদেন এবং মুরাবাহা ও ইজারার পদ্ধতিতে কোন পার্থক্য অনুভব করে না, কিংবা যারা মুরাবাহা এবং ইজারা সম্পর্কে সে ব্যবসা-ই বিভিন্ন নামে চালু রাখার অভিযােগ করে। কেননা মুরাবাহা এবং ইজারাকে যদি জরুরী শর্তসাপেক্ষে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এতে পার্থক্যের অনেক দিক বিদ্যমান আছে যা তাকে সুদি লেনদেন থেকে পৃথক করে দেয়। কিন্তু এ কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, এ দুটি পন্থা মূলত শরীয়তে অর্থায়ন পদ্ধতি নয়। শরীয়তের আলিমগণ সেগুলােকে অর্থায়নের জন্য শুধুমাত্র ঐ ক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন, যেখানে মুশারাকা কার্যকর সম্ভব নয়, এবং এ অনুমতিও বিশেষ শর্তসাপেক্ষে দিয়েছেন। এ অনুমতিকে সর্বকালীন নিয়ম-নীতি হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। আর এমন না হওয়া উচিত যে, ব্যাংকের সকল লেনদেন-কার্যক্রম মুরাবাহা এবং ইজারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

আরো পড়তে পারেন:  মুশারাকা বা অংশীদারী কারবার

তৃতীয় কথা হল যখন জনসাধারণ এ প্রকৃত তথ্য জানতে পারবে যে, ইসলামী ব্যাংকসমূহে সংঘটিত লেনদেন দ্বারা লব্ধ আয় প্রচলিত সুদী ব্যাংকসমূহের মতই, তাহলে তারা ইসলামী ব্যাংকসমূহের কার্যক্রম সম্পর্কে সন্দেহ-সংশয়ের শিকার হবে।

চতুর্থ কথা হল যদি ইসলামী ব্যাংকসমূহের সকল লেনদেন-কার্যক্রম উল্লেখিত পন্থাসমূহের (মুরাবাহা, ইজারার) উপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে জনসাধারণের সামনে সেসব ব্যাংকের ব্যাপারে যুক্তি পেশ করা জটিল হয়ে যাবে। বিশেষ করে অমুসলিমদের সামনে যারা এ কথা অনুভব করবে যে, এসব কাগজপত্রের তােড়-জোড় ব্যতীত কিছুই নয়।

অনেক ইসলামী ব্যাংকে এ কথা অনুভূত হয়েছে যে, সেখানে মুরাবাহা এবং ইজারাকেও সেগুলাের শরীয়তের কাংক্ষিত পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবহার করা হয় না। মুরাবাহার মৌলিক পদ্ধতি এই যে, কোন জিনিস ক্রয় করে তাকে গ্রাহকের নিকট বাকিতে পরিশােধের ভিত্তিতে বিশেষ মুনাফার অনুপাতে বিক্রি করা। (শরীয়তের দৃষ্টিতে অপরিহার্য হল, উক্ত জিনিস বিক্রির পূর্বে ব্যাংকে মালিকানা এবং কমপক্ষে ব্যাংকের পরােক্ষ কজায় আসতে হবে। যতটুকু সময় সে জিনিস ব্যাংকের কজা এবং মালিকানায় থাকবে ততটুকু সময় তা ব্যাংকের ঝুঁকিতে (Risk) থাকবে।) এটা অনুভূত হয়েছে যে, অনেক ইসলামী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঐ লেনদেনকার্যক্রম সম্পর্কে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি করে।

কোন কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ ধারণা পােষণ করে রেখেছে যে, মুরাবাহা সকল বাস্তবিক উদ্দেশ্যের ব্যাপারে সুদের স্থলবর্তী। এ কারণেই তারা কোন কোন সময় এমন ক্ষেত্রেও মুরাবাহা চুক্তি করে নেয়, যখন গ্রাহকের (Overhead Expenses) দৈনন্দিন উপরি ব্যয়ের জন্য ফান্ডের প্রয়ােজন হয়। যেমন, বেতন-ভাতা পরিশােধ, এমন জিনিস এবং সেবার বিল পরিশােধ যা পূর্বে ব্যবহৃত হয়েছে। স্পষ্টত যে, এ ক্ষেত্রে কোন মুরাবাহা হতে পারে না। কেননা, ব্যাংক কোন জিনিস ক্রয়-ই করছে না।

কোন কোন ক্ষেত্রে গ্রাহক কোন ব্যাংকের সাথে চুক্তির পূর্বে দ্রব্য ক্রয় করে অর্থাৎ, পণ্য সরবরাহকারীর নিকট ক্রয়ের অর্ডার প্রদান করে (Buy Back) এবং এই প্রক্রিয়াকে মুরাবাহ হিসেবে বিবেচনা করে, যা কিনা আদৌ মুরাবাহ নয় বরং ইসলামী নীতিমালার পরিপন্থি। কেননা, বাইব্যাককে সর্বসম্মতিক্রমে শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

কোন কোন ক্ষেত্রে স্বয়ং গ্রাহককেই ব্যাংকের পক্ষ হতে এ হিসেবে উকিল নিয়ােগ করা হয় যে, সে সংশ্লিষ্ট জিনিস ক্রয় করবে এবং তা গ্রহণের পর নিজেই নিজের কাছে বিক্রি করবে। এ পদ্ধতি মুরাবাহা বৈধতার মৌলিক শর্তানুযায়ী নয়। যদি গ্রাহককেই দ্রব্য ক্রয়ের ব্যাপারে উকিল বানাতে হয়, তাহলে তার উকিল এবং ক্রেতা হওয়ার দিক পৃথক পৃথক হওয়া অপরিহার্য। যার অর্থ হল, গ্রাহক সে দ্রব্য ব্যাংকের পক্ষ হতে ক্রয়ের পর ব্যাংককে এ কথা অবগত করা অপরিহার্য যে, সে তার পক্ষ হতে উক্ত দ্রব্য ক্রয় করে নিয়েছে। অতঃপর ব্যাংক নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইজাব-কবুলের (প্রস্তাব-গ্রহণের মাধ্যমে সে দ্রব্য গ্রাহকের নিকট বিক্রি করবে। তবে ইজাব-কবুল ফ্যাক্স কিংবা টেলেক্স ইত্যাদির মাধ্যমেও হতে পারে ।।

যেরূপ পূর্বে বিবৃত হয়েছে যে, মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয়ের একটি প্রকার, আর শরীয়তের এটা নির্ধারিত উসূল যে, মূল্য ক্রয়-বিক্রয়ের সময় নির্ধারিত হতে হবে। সুতরাং উভয়পক্ষ যখন মূল্য নির্ধারিত করে নিবে, তাহলে পরবর্তীতে এককভাবে তাতে আর কমবেশি করা যাবে না। এটাও পরিলক্ষিত হয়েছে যে, কোন কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান মূল্য পরিশােধে বিলম্বের কারণে মুরাবাহার মূল্যে সংযােজন করে নেয় যা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয। কোন কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান অনাদায়ের ক্ষেত্রে মুরাবাহার মধ্যে রােল-অভার (Roll-Over) করে নেয়। স্পষ্টত যে, এ কাজও শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নেই। কেননা, যখন একটি জিনিস একবার একজন গ্রাহকের নিকট বিক্রি করা হয়েছে, তাহলে সেই গ্রাহকের নিকট উক্ত দ্রব্য পুনর্বার বিক্রি করা যায় না।

ইজারার লেনদেনেও শরীয়তের কোন কোন চাহিদাকে সাধারণত দৃষ্টির আড়াল করে রাখা হয়। ইজারা বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য একটি শর্ত হল, ইজারাদাতা (Lessor) ইজারায় প্রদানকৃত সম্পদের মালিকানার সাথে সম্পৃক্তের কারণে ঝুঁকি বহণ করবে এবং সে ইজারাগ্রহীতাকে (Lessee) উক্ত দ্রব্য ভােগ-ব্যবহারের অধিকার প্রদান করবে যার বিনিময়ে সে ভাড়া (Rent) আদায় করবে। এটা পরিলক্ষিত হয়েছে যে, ইজারার অনেক চুক্তিতে এসব নিয়ম-নীতির বিরােধিতা করা ও পরিপন্থি কাজ করা হয়। এমনকি ইজারায় প্রদানকৃত সম্পদ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইজারাগ্রহীতা থেকে ভাড়া পরিশােধের দাবী করা হচ্ছে। যার অর্থ হল, ইজারাদাতা মালিকানার ঝুঁকিও (Risk) বহন করছে না এবং ইজারাগ্রহীতাকে ভােগ-ব্যবহারের অধিকারও ব্যবস্থা করে দিচ্ছে না। এ ধরনের ইজারা শরীয়তের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থি।

আরো পড়তে পারেন:  মুরাবাহা কি আলোচনা কর

ইসলামী ব্যাংকিং ঐসব নিয়ম-নীতির উপর নির্ভরশীল, যা আধুনিক ব্যাংকিং পদ্ধতির নিয়ম-নীতি থেকে ভিন্ন ধরনের। সুতরাং যুক্তিসংগত কথা হল মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে উভয়ের পরিণামও আবশ্যকীয়ভাবে এক ধরনের হবে না। হতে পারে যে, কোন কোন অবস্থায় ইসলামী ব্যাংক বেশি অর্জন করবে এবং এটাও হতে পারে যে, কোন কোন সময় স্বল্প পরিমাণ অর্জন করবে। যদি আমাদের লক্ষ্য এটা হয় যে, আমরা মুনাফার ব্যাপারে আধুনিক ব্যাংকসমূহের সাথে সামঞ্জস্যতা রক্ষা করব, তাহলে আমাদের জন্য ইসলামী উসূলের উপর নির্ভরশীল পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা জটিল হবে। যে যাবৎ ইসলামী ব্যাংকসমূহে বিনিয়ােগকারী, তাদের ব্যবস্থাপক এবং গ্রাহকগণ এ বাস্তবতাকে গ্রহণ না করবে এবং বিভিন্ন পরিণতিকে (যেগুলাে অপছন্দ হওয়া জরুরী নয়) গ্রহণ না করবে, সে যাবৎ এসব ইসলামী ব্যাংক বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করতে থাকবে এবং সঠিক ইসলামী পদ্ধতি অস্তিত্ব লাভ করবে না।

ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবসায়িক লেনদেনকে সমাজের চারিত্রিক উদ্দেশ্য থেকে পৃথক করা যাবে না। এ কারণে ইসলামী ব্যাংকসমূহ থেকে এ প্রত্যাশা করা যাচ্ছিল যে, তারা নতুন আর্থিক পলিসী গ্রহণ করবে এবং বিনিয়ােগের নতুন মাধ্যম উদ্ভাবন করবে যার দ্বারা উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌছার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান এবং ছােট-খাট ব্যবসায়ীদেরকে তাদের জীবনােপায় উন্নত করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এ দিকে অনেক কম ইসলামী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান-ই নজর দিচ্ছে। আধুনিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপরীত যাদের উদ্দেশ্যই শুধুমাত্র বেশির চেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করা, ইসলামী ব্যাংকসমূহের উচিত, তারা যেন সমাজের প্রয়ােজনসমূহ পূরণ করাকেও তাদের উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে একটি উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং ঐসব পদ্ধতিকে প্রাধান্য দেয় যা সাধারণ লােকদের জীবনােপায় উন্নত করার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। তাদের উচিত তারা যেন হাউজ ফিন্যান্সিং, গাড়ির অর্থায়ন এবং ভূমি অর্থায়নের নিত্য নতুন পদ্ধতি ছােট-খাট ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্ভাবন করে। এ ময়দান এখনাে ইসলামী ব্যাংকসমূহের দৃষ্টি নিবন্ধের অপেক্ষায় আছে।

ইসলামী ব্যংকিং-এর মিশনকে ততক্ষণ পর্যন্ত অগ্রসর করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাকংসমূহের পারস্পরিক লেনদেন পদ্ধতি ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী গঠন করা না হবে। এ ধরনের কোন পদ্ধতি না পাওয়া যাওয়ার কারণে ইসলামী ব্যাংক তাদের স্বল্প সময়ের তারল্যের (Liquidity) প্রয়ােজন পূরণার্থে প্রচলিত সুদী ব্যাংকসমূহের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয় এবং প্রচলিত সুদী ব্যাংকসমূহ এ ধরনের সুযােগ প্রকাশ্য কিংবা গােপনী সুদবিহীন প্রদান করে না। ইসলামী নীতি-আদর্শে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন এখন কিছুতেই জটিল মনে হয়। কেননা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় দু’শর কাছাকাছি। এসব ব্যাংক মুরাবাহা এবং ইজারার সমন্বয়ে একটি ফান্ড গঠন করতে পারে, যার ইউনিটসমূহ তাৎক্ষণিক প্রয়ােজনীয় চুক্তির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। যদি এসব ব্যাংক এ ধরনের ফান্ড গঠন করে নেয়, তাহলে এর দ্বারা অনেক বিষয় ও সমস্যার সমাধান হতে পারে।

আখেরী কথা হল, ইসলামী ব্যাংকসমূহকে তাদের একটি পৃথক কালচার গঠন করা উচিত। স্পষ্টত যে, ইসলাম ব্যাংকিং চুক্তি পর্যন্ত-ই সীমাবদ্ধ নয়। বরং ইসলাম উসূল এবং বিধি-বিধানের এমন একটি সংক্ষিপ্তসার যা মানুষের পূর্ণ জীবনকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। এ কারণে “ইসলামী” হওয়ার জন্য শুধুমাত্র ইসলামী উসূলের উপর প্রতিষ্ঠিত চুক্তিসমূহ ডিজাইন করে নেয়া-ই যথেষ্ট নয়। বরং এটাও অপরিহার্য যে, প্রতিষ্ঠানের সার্বিক রীতি-নীতি এবং তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থেকে ইসলামী স্বকীয়তার নিদর্শন প্রকাশিত হতে হবে, যার ফলে তারা প্রচলিত প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বিশিষ্ট এবং বিখ্যাত হিসেবে দৃষ্টিগােচর হবেন। এর জন্য প্রতিষ্ঠান এবং তার ব্যবস্থাপকদের সার্বিক কার্যক্রমে পরিবর্তন অপরিহার্য।

ইবাদাত- সংক্রান্ত ইসলামী ফারায়েয এবং চারিত্রিক রীতি-নীতি এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পরিবেশে প্রকাশিত হতে হবে যা নিজেকেই ইসলামী বলে। এটা এমন একটি ময়দান, যে ময়দানে মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন ইসলামী প্রতিষ্ঠান অগ্রসর হয়েছে, অথচ উচিত ছিল সারা পৃথিবীর ইসলামী ব্যাংকসমূহ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ঠ সকলে এই বৈশিষ্ঠ ও গুণে গুণান্বিত হওয়া উচিত। এ ব্যাপারেও শরীয়াহ বাের্ডের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে হবে।

যেরূপ পূর্বে সুস্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, এ আলােচনার উদ্দেশ্য ইসলামী ব্যাংকসমূহকে নিরুৎসাহী করা কিংবা তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি অনুসন্ধান করা নয়, বরং উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তাদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা যে, তারা যেন তাদের কার্যক্রমকে শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালােচনা করে এবং নিজেদের কর্মপদ্ধতির গঠন ও পলিসী নির্ধারণে বাস্তবসম্মত চিন্তা ভাবনা ও বিবেচনা করে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

2 thoughts on “ইসলামী ব্যাংক এর কার্যাবলী

  1. একটা প্রশ্ন ছিল। আর্টিকেলে এটি আমার চোখে পড়েনি।
    ধরুন আমি ইসলামী ব্যাংক থেকে লোণ নেব। এক্ষেত্রে আমার কাছ থেকে ইন্টারেস্ট নেয়া ব্যতীত ব্যাংক কিভাবে মুনাফা অর্জন করবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *