আপনার জন্য সেরা ক্রেডিট কার্ড কোনটি

যখন আমরা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করি তখন অধিকাংশ ক্রেডিট কার্ডের কোন না কোন অফার আমরা পেয়ে থাকি। যেমন ধরুন, কেনাকাটার সময় কেনাকাটার উপর ডিসকাউন্ট অথবা রিওয়ার্ড পয়েন্ট ইত্যাদি। তাই সঠিক ক্রেডিট কার্ড নেয়ার আগে সঠিক ক্রেডিট কার্ড নির্বাচন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।ক্রেডিট কার্ড

সঠিক ক্রেডিট কার্ড কিভাবে নির্বাচন করবেন

খরচের সীমা
মাসে কত টাকা ব্যায়ের জন্য আপনি ক্রেডিট কার্ড নিবেন? সেটি আপনাকে আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হবে। বিভিন্ন ধরণের ক্রেডিট কার্ডের বিভিন্ন ধরণের চাহিদা থাকে। যেমন, আমার একটি কার্ড আছে যার ক্রেডিট লিমিট ১,০০,০০০.০০ টাকা। আর, আমার মা যে কিনা মাসে খরচ করে ১০,০০০.০০ টাকা। কাজেই, প্রথমে আপনি আপনার ব্যায়ের সীমা ঠিক করুন, তারপর আপনার চাহিদামত ক্রেডিট কার্ড পছন্দ করুন।

খরচের অভ্যাস
কী জন্য আপনি ক্রেডিট কার্ড বেশি ব্যবহার করবেন, এটি একটি গুরুতূপূর্ণ বিষয়। কেনাকাটা অথবা ভ্রমণ করতে অথবা টাকা উত্তোলন অথবা অন্যকিছু? কেন আমি এখানে এই বিষয়টা উল্লেখ করলাম কারণটা হল- কিছু কিছু ব্যাংক বা নন ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান(এনবিএফআই) নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের জন্য তাদের কার্ড তৈরি করে। যেমন, ট্রাভেলিং কার্ড, হজ্জ্ব কার্ড, রেমিটেন্স কার্ড, গিফট কার্ড, ক্যাশ কার্ড ইত্যাদি। আপনার কার্ড যদি নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য হয়ে থাকে তাহলে আপনার খরচ অনেক কমে যাবে। কারণ, ঐ নির্দিষ্ট কেনাকাটার জন্য কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ডিসকাউন্ট অথবা রিওয়ার্ড পয়েন্ট প্রদান করে থাকে।

ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড কি এবং পার্থক্য কি

বিল পরিশোধের শেষ তারিখ
প্রত্যেক ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী ব্যাংকের বিলিং সাইকেল পিরিয়ড থাকে। তারা মাঝে মাঝে বিলিং সাইকেল পিরিয়ড পরিবর্তন করে থাকে। ক্রেডিট কার্ড গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই বিলিং সাইকেল পিরিয়ড সম্পর্কে অবগত হতে হবে। তানাহলে আপনার ক্রেডিট কার্ডের বিল, ডিউ ডেট বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদান করতে না পারলে লেট ফিসহ নানা ধরণের জরিমানা প্রদান করতে হবে। যেমন ধরুন, আপনি বেতন পান মাসের পঁচিশ তারিখে। কিন্তু আপনার ক্রেডিট কার্ডের বিল প্রদানের ডিউ ডেট বিশ তারিখ। এক্ষেত্রে আপনার জরিমানার সম্ভাবনা বেশি। কারণ মাসের শেষের দিকে হাতে তেমন টাকা থাকে না।

আরো পড়তে পারেন:  এনপিএসবি ডেবিট কার্ড: ভিসা এবং মাস্টার কার্ডের বিকল্প

সুদ
আপনি ক্রেডিট কার্ড গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। বাংলাদেশে খুব অল্প সংখক ব্যাংকই পাবেন যেখানে সুদের হার কম নির্ধারণ করা হয়। কিছু ব্যাংক আপনাকে ১৮ শতাংশ সুদে ক্রেডিট কার্ড প্রদান করে। আবার কিছু ব্যাংক আছে যারা ৩০ শতাংয়েরও বেশি সুদে ক্রেডিট কার্ড প্রদান করে। কিছু ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এটিএম বুথের ম্যাধমে টাকা উত্তোলন করলে প্রসেসিং ফি কেটে নেয়। আবার অন্যদিকে কিছু ব্যাংক প্রসেসিং ফি চার্জ করেন।

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলনের জন্য এটিএম বুথ ছাড়াও কার্ড চেকের ম্যাধমে টাকা উত্তোলন করা যায়। যেখানে চার্জ করা হয়ে থাকে প্রসেসিং ফি হিসেবে ১ শতাংশ থেকে ২.৫০ শতাংশ পর্যন্ত। ক্রেডিট কার্ড নির্বাচনের পূর্বে কার্ড চেক সম্পর্কেও জেনে নেয়া জরুরি।

ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান
কোন ব্যাংক থেকে আপনি ক্রেডিট কার্ড নিবেন সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সকল ব্যাংক সমান সুযোগ সুবিধা প্রদান করে না । কিছু ব্যাংক আপনাকে সুদ ছাড়া এবং সুদসহ দুইভাবেই ইএমআই করার সুযোগ সুবিধা প্রদান করবে। সুদসহ এবং সুদ ছাড়া ইএমআই হল- কিছু ব্যাংক শুধু তাদের নির্বাচিত শপ থেকে কেনাকাটা করলে ইএমআই করার সুযোগ দিবে যে জন্য আপনাকে কোন প্রকার সুদ প্রদান করা হবে না । আবার, কিছু ব্যাংক যেকোন শপ থেকে কেনাকাটা করলে সুদ গ্রহণ করে ইএমআই এর সুবিধা প্রদান করে থাকে।

আরো পড়তে পারেন:  একাউন্ট থেকে আবগারি শুল্ক বছরে কত কাটা হয়

কার্ডের সাইজ

তুলনা
সর্বশেষে আপনাকে যেটি করতে হবে আর তাহল, আপনি যে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড নিতে চাচ্ছেন, তা অন্য ব্যাংকের সাথে তুলনা করতে হবে, যদিও কাজটি সহজ নয়। তবে আপনি যদি কিছু ব্যাংকের সাথেও তুলনা করতে পারেন, তাহলে আপনি একটি ভালো মানের ক্রেডিট কার্ড পাবেন। এক্ষেত্রে, আপনি বিভিন্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইট এবং কল সেন্টারের সহযোগিতা নিতে পারেন।

অনেকেই বলে থাকেন ক্রেডিট কার্ড ভাল জিনিস নয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার ক্রেডিট কার্ডের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এবং সময়মত সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করেন তাহলে দেখবেন ক্রেডিট কার্ড সত্যিই একটি আর্থিক সাহায্যকারী যন্ত্র। বাজারে অনেক ধরণের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। আপনাকে শুধু সঠিক ক্রেডিট কার্ডটি বাছাই করে নিতে হবে।

Recommended For You

About the Author: এডমিন

২ Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *